“শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূ" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ শ্রীশ্রীমহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব সর্বসাধারণ্যে যেমন দেবতার মহিমময় উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত, তেমনি তিনি মানবত্বের চরম ত্যাগ, বিশ্বজনীন উদারতা, পরদুঃখকাতরতা এবং অযাচিত ভেদাভেদরহিত প্রেমের এক অতি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভক্তজন হৃদয়ে তিনি পাপতাপহারী পরমদয়াল পতিতের ভগবান হিসেবে নিত্য। চন্দনপুষ্পে পূজিত হয়ে আসছেন দেবত্ব ও মানবত্বের যুগল বিগ্রহরূপে। এই দেব-মানবের লীলাকাহিনী, তার বাণী, উপদেশ এবং আচার-আচরণ নিয়ে। অনেক পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যাখ্যা আছে। অনেক রসিক মহাজন শ্রীগৌরাঙ্গের স্বরূপ হৃদয়ে উপলব্ধি করে রসপিপাসু জনগণের কাছে উপলব্ধ রস পরিবেশন করেছেন। - শাস্ত্রের দুরূহ ব্যাখ্যা ও ধর্মের কঠিনতত্ত্ব বাদ দিয়ে সাধারণের কাছে যাতে সহজবােধ্য হয়, সেদিকে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের মহাজীবনের সহস্রাংশও প্রকাশ করা সম্ভব নয় এ সামান্য পুস্তকে। তবুও যতটুকু জানলে তাঁকে সাধারণভাবে জানা যায় না, ততটুকুই সংযােজন করেছি মাত্র। এ যুগে যুগে মানুষ যখনই হয়েছে ধর্মবিমুখ, অশুভশক্তি যখনই আধিপত্য বিস্তার করেছে, তখনই ভগবান অবতাররূপে অবতীর্ণ হয়ে দুষ্কৃতের বিনাশ, - সাধুগণের পরিত্রাণ ও ধর্মের সংস্থাপনা করেছেন। কলিযুগের শেষ পাদে এমনি এক মহাসঙ্কট মুহূর্তে নবদ্বীপে অবতাররূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন পীতবর্ণধারী শ্রীগৌরাঙ্গদেব। কলিতে জীবের একমাত্র উপায় শ্রীকৃষ্ণনামসংকীর্তন। প্রচার করলেন শুদ্ধ ভক্তিধর্মের ; জনে জনে বিতরণ করলেন শ্রীকৃষ্ণ প্রেম। তাই তাকে আমরা প্রেমের ঠাকুর’ বলে থাকি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রচ্ছন্নভাবে অবতীর্ণ হয়ে জগত্ময় শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন প্রচার করে জীবগণে চৈতন্যের বিধান করলেন। তাই তিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য।