"রবীন্দ্রনাট্যে রূপান্তর ও ঐক্য" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: অন্যের লিখিত কাহিনীকে আশ্রয় করে তার অনাট্যরূপ দিয়েছেন বিশ্বের বহু যশস্বী নাট্যকার। আবার অন্যের রচিত নাটকের ভিন্নতর নাট্যভাষ্য রচনা করেছেন এমন নাট্যকারও অবিরল। রবীন্দ্রনাথের স্বাতন্ত্র্য এইখানে যে, নিজের পূর্বরচিত উপন্যাস-কবিতা-ছােটগল্পকে যেমন তিনি নাটকে রূপান্তরিত করেছেন, তেমনই একই কাহিনী অবলম্বনে রচিত নিজের নাটকের একটি। বিকল্পরূপও পরবর্তীকালে নির্মাণ করেছেন। যেন এভাবেই রচিত হয়ে উঠেছে একই নাটকের ভিন্নতর ভাষ্য। এই রূপান্তরের স্বরূপ ও অন্তর্লীন ঐক্যের সন্ধান এই শ্রুতকীর্তি গ্রন্থে। নাটকগুলির সংস্করণভেদ তাে আছেই, কিন্তু সংস্করণভেদ না বলে কোনও-কোনও নাটকের এইসব বিকল্পরূপকে কেন স্বতন্ত্র, স্বাবলম্বী। নাটকের মর্যাদা দেওয়া হল, তারই নিবিড়, অনুপুঙ্খময় বিশ্লেষণ রয়েছে এই বইতে, রয়েছে। রসবােধ ও মনস্বিতার দুর্লভ সমন্বয়ে। এই আলােচনার সময় ইংরেজি ভাষান্তরকালীন। রূপান্তরও বর্ণিত ও বিশ্লেষিত হয়েছে বিশেষ যােগ্যতায়। একইসঙ্গে দেখানাে হয়েছে—জড়ত্ব, সংস্কার, অহমিকা, মিথ্যাচারের নানামুখী অধ্রুবের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ যেসব প্রত্যয়কে স্থায়ী ও নিত্যকালীন বলে বিবেচনা করতেন, জীবনবােধের সেইসব ধ্রুবতা নাটকের এইসব বিচিত্র রূপান্তর-ভাষ্যান্তরের মধ্য দিয়ে কীভাবে মালিন্যমুক্ত ঔজ্জ্বল্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। নিপুণভাবে দেখিয়েছেন অশ্রুকুমার, নাট্যরূপান্তর সত্ত্বেও কোথায় রয়ে গেছে সেই অন্তৰ্গঢ় ঐক্যের ভাবনা। এভাবেই বইটি হয়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাটকের পাঠ-আলােচনার এক অপরিহার্য প্রবেশক।
অশ্রুকুমার সিকদারের জন্ম ১৯৩২ সালে দার্জিলিং জেলার চা-বাগিচায়। শিক্ষা শিলিগুড়িতে, জলপাইগুড়ি ও কলকাতায়। আগেও কলেজে পড়াতেন, ১৯৭২ সাল থেকে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনায় নিযুক্ত। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে আছে ‘আধুনিক কবিতার দিগ্বলয়', ‘আধুনিকতা ও বাংলা উপন্যাস’, ‘নবীন যদুর বংশ। অচির-প্রকাশিতব্য গ্রন্থ ‘কবির কথা কবিতার কথা। গোটা তিনেক বইয়ের সম্পাদনাও করেছেন ।