‘খনার বচন ও কৌটিল্যের নীতিশাস্ত্র’ শিরোনামের এই বইটি সম্পাদনা করেছেন মোবারক সালমান। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। অধিকাংশ গবেষকদের মতে খনার বচন ৭ম শতাব্দীরও পূর্বে রচিত হয়েছিল। এই রচনাগুলো চার ভাগে বিভক্ত। ভারতের আসাম থেকে নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশসহ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের কেরালা পর্যন্ত খনার বচনের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সিংহলি ভাষায় রচিত মহাবংশ নামক গ্রন্থের মাধ্যমে জানা যায় যে, খনা রাজবংশেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শুভক্ষণে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে তার নাম রাখা হয় ক্ষণা বা খনা। আরো জনশ্রæতি আছে যে, খনার নিবাস ছিল অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসত সদর মহকুমার দেউলিয়া গ্রামে। এমনকি, তিনি রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার নবরতেœর দশম সদস্য ছিলেন বলে কথিত। বরাহমিহির-এর পুত্র মিহির তার স্বামী ছিল বলেও কিংবদন্তি কথিত আছে। পণ্ডিত বরাহের খনার পাণ্ডিত্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। তিনি তার পুত্রকে ডেকে বলেন, ‘খনার জিভ কেটে এনে আমার পদতলে বিসর্জন দাও।’ পিতৃ-আদেশ পালনে মিহির খনার জিহ্বা কর্তন করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিদুষী খনার মৃত্যু হয়। খনা অংশের সূচিতে লেখক যুক্ত করেছেন- প্রাসঙ্গিক আলোচনা, খনার বচনের ঐতিহাসিকতা ও পরিব্যাপ্তি, খনার পরিচয়, কিংবদন্তির আলোকে খনা, গবেষণার দৃষ্টিতে খনার পরিচয়, খনার বচনের ভাষা, পাঠান্তর ও বচনসংখ্যা, খনার বচনের সংখ্যা, ধর্ম ও শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে খনার বচনের মূল্যায়ন, খনার বচনের সারসংক্ষেপ। এছাড়া রয়েছে তিনটি অধ্যায়। খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০ অব্দে তৎকালীন ভারতবর্ষের তক্ষশীলায় জন্মগ্রহণ করেন মহামতি কৌটিল্য। খ্রিস্টপূর্ব ২৮৩ অব্দে বিহারে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তার মূল নাম বিষ্ণুগুপ্ত। ছদ্মনাম কৌটিল্য। চানক গ্রামে জন্ম নেয়ায় তাকে চানক্য বা চাণক্যও বলা হয়ে থাকে। অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। এছাড়া মৌর্য বংশের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী পদেও তিনি নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর নীতিবোধ-শিক্ষা খুবই উচ্চাঙ্গের ও মানবিকতার গুণে প্রশংসিত ছিল। তাঁর একটি সংকলন হলো ‘চাণক্য নীতি দর্পণ’। অর্থশাস্ত্র ও চাণক্য নীতি নামক দুটি গ্রন্থ তিনি রচনা করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। সম্পাদক এ অংশে সূচিবদ্ধ করেছেন- কৌটিল্যের জীবনী ও কৌটিল্যের নীতিশাস্ত্র। এছাড়া বইটিতে রয়েছে খনার বচনের শব্দার্থ, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও শাস্ত্রীয় আলোচনা।
পিতা মোকছেদ আলী সরদার, মাতা মরিয়ম বেগম। স্থায়ী ঠিকানা: কাজলদিঘি নিবাস, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া। জন্মস্থান: গ্রাম-বাউস্ত, ডাকঘর- কাশিড়া, উপজেলা- আক্কেলপুর, জয়পুরহাট। ২০১৩ সালে তিনি সুস্থধারার ও সহজবোধ্য সাহিত্য-চর্চার বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে বরেন্দ্র ভূমি রাজশাহী বিভাগের বেশ কয়েক জন কবি-সাহিত্যিক বন্ধুকে নিয়ে ‘বরেন্দ্র রাইটার্স ক্লাব’ গড়ে তোলেন। সাহিত্যে তাঁর রয়েছে আলাদা দর্শন। তিনি পৌরাণিক ও আধুনিক সাহিত্যের গবেষণালব্ধ গ্রহণযোগ্য মতের উপর ভিত্তি করে সর্বজনগ্রাহ্য ও রুচিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সাহিত্য-গবেষক হিসেবে বেশ পরিচিত। প্রচুর অধ্যবসায়, গবেষণা, নৃতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক, আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণা করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি বাউস্ত গ্রামের সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী সরদার-বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় দিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরিসমাপ্তি হয় পশ্চিমবঙ্গের গৌড়-বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মালদহ কলেজ থেকে। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি লেখালেখি ও সাহিত্য সাধনার সঙ্গে জড়িত। তিনি বর্তমানে স্বনামধন্য একটি প্রকাশনা-সংস্থার সম্পদনা বিভাগে গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সম্পাদনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ সম্পর্কে তার রচিত ‘ছন্দের ব্যাকরণ’ বইটি বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।